প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি পরীক্ষামূলক রফতানির পণ্য ইতালি যাচ্ছে ১১শ’ কন্টেনার। এর আগে ইউরোপের বাজারে পণ্য পাঠাতে সরাসরি কোন রুট এতদিন ছিল না। ইউরোপের বায়াররাই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহনের উদ্যোগ নেন। তালির রেভেনা বন্দর থেকে খালি কন্টেনার নিয়ে এসেছে জাহাজ এমভি সোঙ্গা-চিতা।

রফতানির পণ্য নিয়ে সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জাহাজটির বন্দর ত্যাগ করার কথা রয়েছে। ফতানিকারক ও শিপিং কোম্পানিগুলো এ রুটকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর (ডিসি) ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম জানান, সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১টার দিকে এনসিটি (নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনাল) চার নম্বর জেটি থেকে জাহাজটির ইতালির উদ্দেশে ছেড়ে যাবার কথা রয়েছে। সেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। এ রুটটি যেন স্থায়ী রুটে পরিণত হয় সে জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের যা যা করা দরকার, তার সবই করবে।

চট্টগ্রাম টু ইতালি: সরাসরি যাচ্ছে ১১০০ কন্টেনার

আবারও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি কেজি এলপিজি ৯৮ টাকা ১৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০৩ টাকা ৩৪ পয়সা করেছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৪০ টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় দাম বাড়ানোর এ ঘোষণা দেয় বিইআরসি, পরে সন্ধ্যা ৬টা থেকেই এ দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এলপিজি গ্যাসে কেজিপ্রতি ৮ টাকা বেড়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য এলপিজি মূসকসহ কেজিপ্রতি ৯৪ দশমিক ৯৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৩ টাকা ৩১ পয়সা করা হয়েছে। ফলে জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে গ্রাহককে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজিতে ৬২ টাকা বেশি দিতে হবে।

একইসঙ্গে বেড়েছে পরিবহনে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের দামও, যা অটোগ্যাস নামে প্রচলিত। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৫৭ টাকা ৮১ পয়সা করা হয়েছে, যা জানুয়ারি মাসে ছিল ৫৪ টাকা ৯৪ পয়সা। লিটারে বেড়েছে প্রায় ২ টাকা ৮৭ পয়সা।

এদিকে এর আগে গত বছর টানা পাঁচ দফা এলপিজির দাম বাড়ে। এতে সবশেষ ৪ নভেম্বর ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ এক হাজার ৩১৩ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি, যা ছিল গত বছরের সর্বোচ্চ দাম। পরে ৩ ডিসেম্বর দাম কমিয়ে এক হাজার ২২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। টানা দাম বাড়ার কারণে গেল বছর আলোচনায় ছিল এলপিজি। এবছর জানুয়ারি মাসে ৫০ টাকা কমিয়ে এলপিজির দাম ১ হাজার ১৭৮ টাকা নির্ধারণ করলেও আবার ৬২ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে।

আবারো দাম বাড়লো এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস

ফের বাড়তে শুরু করেছে নির্মাণ সামগ্রীর অন্যতম প্রধান উপকরণ রডের দাম।

বাজারে প্রতি টন রডের দাম ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেড়েছে। এফবিসিসিআই কার্যালয়ে বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসএমএ) ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি (বিএসিআই) গতকাল বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বৈঠকে বসে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় নির্মাণ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিন মাস পর পর বৈঠকে বসবে অবকাঠামো নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও কাঁচামাল উৎপাদকরা। রডের সামগ্রিক উৎপাদনে ৫২ শতাংশ খরচ বাড়ায় বিক্রয়মূল্য বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। তাই বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির তুলনায় বিক্রয়মূল্য না বাড়ায় লোকসান দিয়ে রড বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

এ খাতের উদ্যোক্তারা জানান, ২০২১ সালের স্টিল তৈরির প্রধান কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও রাসায়নিক ও কনটেইনারের ভাড়া বেড়েছে। এর প্রভাবে রডের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। বিশ্ববাজারে কাঁচামালের দাম বাড়ায় দেশে উৎপাদিত রডের দাম যৌক্তিকভাবে বেড়েছে।

সভায় স্টিল উৎপাদকরা বলেন, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো রড আমদানি করার অনুমতি পেলে, দেশীয় শিল্প ক্ষতির মুখে পড়বে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কা তৈরি হবে। এ অবস্থায় দেশীয় উৎপাদকদের জন্য স্ক্র্যাপ ও স্পঞ্জ আয়রন আমদানিতে বিদ্যমান সকল শুল্ক-কর হ্রাস করার দাবি জানায় বিএসএমএ।

ফের বাড়লো রডের দাম

ফেব্রুয়ারি মাসে বাজারে আসছে নতুন ৫০ টাকার স্মারক রৌপ‌্য মুদ্রা। বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নতুন এই ৫০ টাকা স্মারক রৌপ্য মুদ্রা মুদ্রণ করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে এই মুদ্রা বাজারে পাওয়া যাবে।

গত ২৪ জানুয়ারি বাংলা‌দেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জা‌নানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাপান মিন্ট-এর যৌথ উদ্যোগে একটি ৫০ টাকা মূল্যমান স্মারক রৌপ্য মুদ্রা মুদ্রণ করা হয়েছে। নতুন এ স্মারক মুদ্রা ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রচলন করবে। প্রচলনে দেওয়ার পর স্মারক রৌপ্য মুদ্রাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস ও বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা জাদুঘর, মিরপুর হতে এবং জাপান মিন্ট জাপানে বিক্রয় করা হবে।

৫০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩৫.০০ মিলিমিটার ব্যাসবিশিষ্ট, গোলাকার ও ০.৯২৫ ফাইন সিলভার দ্বারা নির্মিত স্মারক রৌপ্য মুদ্রাটির ওজন ২০ গ্রাম।

স্মারক মুদ্রাটির সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি’ লোগো, লোগোর উপরিভাগে ডালসহ চেরিফুল (জাপানের জাতীয় ফুল) এবং লোগোর নিচে পানিতে ভাসমান কলিসহ শাপলা (বাংলাদেশের জাতীয় ফুল) কালার প্রিন্ট প্রযুক্তিতে মুদ্রণ করা হয়েছে। এছাড়া, সম্মুখভাগে লোগোর বামদিকে ওপরে ‘50 TAKA’ এবং নিচে ‘৫০ টাকা’ মুদ্রিত রয়েছে।

স্মারক মুদ্রার পেছনভাগে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ, স্মৃতিসৌধের উপরিভাগে বৃত্তাকারভাবে ‘বাংলাদেশ-জাপান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি, বাংলা ও ইংরেজিতে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এবং স্মৃতিসৌধের নিচে ‘১৯৭২-২০২২’ মুদ্রিত রয়েছে। বাংলাদেশে বর্ণিত স্মারক রৌপ্য মুদ্রাটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে স্মারক বাক্সসহ পাঁচ হাজার টাকা।

আসছে নতুন ৫০ টাকার স্মারক রৌপ্য মুদ্রা

ঘন কুয়াশার কারণে শরীয়তপুরের নরসিংহপুর-চাঁদপুরের হরিণা ঘাট ও শরীয়তপুরের মঙ্গলমাঝির ঘাট-মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে তীব্র শীতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দীর্ঘসময় নদীপাড়ে আটকে থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।

জানা গেছে, ঘন কুয়াশার কারণে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার দিকে নরসিংহপুর-হরিণা ঘাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এতে ট্রাকসহ প্রায় ২০০ যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়াল তৈরি হয়।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে মঙ্গলমাঝির ঘাট-শিমুলিয়া নৌরুটে আজ সকাল পৌনে ৬টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

বিআইডব্লিউটিসির নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুল মোমেন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচলে সমস্যা হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বুধবার রাত সাড়ে ৪টায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। কুয়াশার কারণে কস্তরি নামের ফেরিটি মাঝপথে আটকা পড়ে। কুয়াশার ঘনত্ব কমে গেলে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হবে। বর্তমানে এই রুটে ছোট-বড় ৭টি ফেরি চলাচল করছে।

শরীয়তপুরের দুই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

শুরুটা ক্রিকেট দিয়ে হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের বরপুত্র তার জীবনকে কেবল ক্রিকেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। রেস্টুরেন্ট ব্যবসা দিয়ে ব্যবসায় হাতেখড়ি হয় সাকিব আল হাসানের। এরপর এ খাতে তিনি আর থেমে থাকেননি। স্বর্ণ আমদানি ও বিপণন, শেয়ারবাজার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, প্রসাধনী, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, কাঁকড়া ও কুঁচের খামারসহ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন তিনি। কেবল দেশে নয় দেশের বাইরেও বড় বড় বিনিয়োগ রয়েছে সাকিব আল হাসানের।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করছেন তিনি। চলতি বছরে মে মাসে একটি ব্রোকারেজ হাউসের অনুমোদন নিয়েছেন সাকিব আল হাসান।

সম্প্রতি স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ও নাম লিখিয়েছেন সাকিব। দেশে বৈধভাবে স্বর্ণবার ও স্বর্ণালংকার আমদানি এবং বিক্রির জন্য ‘বুরাক কমোডিটিজ এক্সচেঞ্জ কোং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নিয়েছেন তিনি। সর্বোপরি ক্রিকেটার পরিচয়ের পাশাপাশি পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন তারকা এ ক্রিকেটার।

করপোরেট জগতে পদচারণা বেশ আগে থেকে হলেও এবার ব্যাংকিং খাতে যুক্ত হচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি পিপলস ব্যাংকের পরিচালক পদে আবেদন করেছেন সাকিব আল হাসান এবং তার মা শিরিন আক্তার।

পিপলস ব্যাংকের প্রধান উদ্যোক্তা এমএ কাশেম একটি জাতীয় পত্রিকায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, পিপলস ব্যাংকের মালিকানায় সাকিব আল হাসান ও তার মা যুক্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে আমরা তাদের ফাইল বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। সাকিবের মতো একজন তারকাকে উদ্যোক্তা হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য গৌরবের। এখনই আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাই না। পিপলস ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন আমরা সংগ্রহ করতে পেরেছি। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে আমরা চূড়ান্ত লাইসেন্স পাব।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংকের মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার নির্দেশনা দিয়েছে। কেউ যদি উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নিতে চান তাকে সর্বনিম্ন দুই শতাংশ শেয়ারের মালিক হতে হবে।

এক্ষেত্রে সাকিব আল হাসানকে পিপলস ব্যাংকের প্রতিটি পরিচালক পদের জন্য সর্বনিম্ন ১০ কোটি টাকা মূলধন জোগান দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ব্যাংকের মালিকানা পেতে সাকিব আল হাসান ২৫ কোটি টাকারও বেশি মূলধন জোগান দিচ্ছেন।

এবার ব্যাংকের মালিক হচ্ছেন সাকিব

আমাদের পেজ লাইক করুন

error: Content is protected !!