নিউ ইয়র্ক: গাজা উপত্যকায় চলমান ভয়াবহ মানবিক সংকট ও অনাহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিস্ক্রিয়তা এবং উদাসীন মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘বিশ্ব বিবেকের জন্য এক নৈতিক সংকট’ বলে উল্লেখ করেছেন।
শুক্রবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বৈশ্বিক সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় গুতেরেস বলেন, “আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অন্ধ উদাসীনতা, নিস্ক্রিয়তা এবং সহানুভূতি, সত্য ও মানবিকতার অভাবের ব্যাখ্যা খুঁজে পাই না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এটি কেবল একটি মানবিক সংকট নয়, এটি নৈতিক সংকটও, যা বিশ্ব বিবেককে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।”
তিনি জানান, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার ঘটনায় জাতিসংঘ বারবার নিন্দা জানালেও, এরপর গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চলছে, তার কোনো ন্যায্যতা নেই। “এত ব্যাপক মাত্রার ধ্বংস সাম্প্রতিক সময়ে আর দেখিনি,” বলেন গুতেরেস।
তিনি বলেন, “শিশুরা বলে যে তারা স্বর্গে যেতে চায়, কারণ অন্তত সেখানে খাবার আছে। আমরা ভিডিও কলে আমাদের মানবিক কর্মীদের দেখি, যারা আমাদের চোখের সামনেই অনাহারে কষ্ট পাচ্ছে… কিন্তু শুধু কথা দিয়ে ক্ষুধার্ত শিশুদের পেট ভরানো যায় না।”
গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে মার্চ মাসে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ত্রাণ প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। মে মাসে এই বিধিনিষেধ আংশিকভাবে শিথিল করা হলেও, বাস্তবে পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। বর্তমানে গাজায় সীমিত খাদ্য সহায়তা বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)।
জাতিসংঘ ও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা জিএইচএফ-এর সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের মতে, এই সংস্থা ইসরায়েলের সামরিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা করছে এবং নিরপেক্ষ মানবিক সহায়তা প্রদানে ব্যর্থ।
জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, জিএইচএফ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গুতেরেস বলেন, “এই মৃত্যু আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় কতটা ব্যর্থ আমরা। আমরা আর চুপ থাকতে পারি না।”
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পলিয়ারিচ বলেন, “গাজায় যা ঘটছে, তার কোনো অজুহাত নেই। মানবিক কষ্ট ও মর্যাদাহানির মাত্রা অনেক আগেই আইনি ও নৈতিক উভয় মানদণ্ডই অতিক্রম করেছে।” তিনি জানান, আইসিআরসি’র ৩৫০ জনেরও বেশি কর্মী সেখানে অবস্থান করছেন, যাদের অনেকেই খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব তাঁর বক্তব্যে দ্রুত যুদ্ধবিরতি, সকল জিম্মির মুক্তি এবং নিরবিচারে মানবিক সহায়তা প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “যদি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, জাতিসংঘ গাজায় মানবিক কার্যক্রম দ্রুত ও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণে প্রস্তুত রয়েছে।”