অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেব : চট্টগ্রামের ডিসি

 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কারও মধ্যে যদি বিন্দুমাত্র সংশয় থেকে থাকে, তাহলে তা ভুলে যেতে হবে। আর যদি সংশয় ভুলে যাওয়া সম্ভব না হয়, তবে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

সংশয় রেখে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের কোনো সুৃযোগ নেই। গতকাল চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারদের নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, ‌‘এখানে রাষ্ট্র গঠনের কমিটমেন্ট প্রয়োজন। হয় সংশয় ভুলে যেতে হবে, নয়তো দায়িত্ব ছেড়ে দিতে হবে।

দায়িত্বে থেকে দ্বিধা রাখার কোনো সুযোগ নেই।’ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, এই নির্বাচন কি শুধু ক্ষমতার পালাবদল, নাকি একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রক্রিয়া? তিনি বলেন, ‘এটা কি শুধু চেয়ার বদলের নির্বাচন, নাকি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন— যেখানে আপনি, আমি, আমাদের সন্তানরা নিরাপদ থাকবে?’ তিনি বলেন, ‘একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমাদের ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছে, গুলি খেয়েছে, পিছু হটেনি।

আমাদের শরীরেও সেই রক্ত আছে। আমাদের সেই রক্তে উজ্জীবিত হতে হবে।’ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের দলীয় পক্ষপাত বা ভালোবাসা প্রদর্শনের সুযোগ নেই। “আপনার ব্যক্তিগত ভালোবাসা থাকতেই পারে, কিন্তু সেটা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। পরিষ্কার কথা— কোনো দলের প্রতি ভালোবাসা দেখানো যাবে না।

রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বই একমাত্র পরিচয়।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের শতভাগ নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। এই নিরপেক্ষতার জন্য বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, রক্ত ঝরিয়েছে। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।’

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘প্রিজাইডিং অফিসারদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকবেই, সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করতে হবে। নিজের স্বার্থ ভুলে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।’

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গণভোটের চারটি অংশ সম্পর্কে প্রিজাইডিং অফিসারদের পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। ভোটাররা প্রশ্ন করলে তার উত্তর দিতে হবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘আমরা জানি না’ বলার কোনো সুযোগ নেই। প্রশিক্ষণে না শিখলে নিজে পড়ে শিখে নিতে হবে।’

ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমদ খাঁন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারহানুর রহমান।

Please follow and like us:

     এই বিভাগের আরো খবর

আমাদের পেজ লাইক করুন

error: Content is protected !!