নেত্রকোনায় ঠিকাদারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগে মামলা

নেত্রকোনা:

নেত্রকোনা পৌর শহরের ছোট বাজার এলাকার ওয়াজেদ কমপ্লেক্সের একটি যৌথ ঠিকাদারি চেম্বার থেকে ঠিকাদার ফজলুর রহমানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এই রহস্যজনক ঘটনাটি ঘটে।

খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়াজেদ কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার পশ্চিম পাশের একটি কক্ষে হাঁটুভাঁজে দাঁড়ানো অবস্থায় ফজলুর রহমানের গলায় দড়ি পেঁচানো ছিল। কক্ষের ভেতরে একটি প্লাস্টিকের চেয়ার ও একটি টেবিল পাওয়া যায়। তবে দরজার খিলান খোলা থাকায় মৃত্যুর ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।

মৃত ফজলুর রহমান দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ বছর ধরে কয়েকজন অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে ঠিকাদারি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী তাহিরা হালিম বাদী হয়ে হত্যার অভিযোগে নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, তার স্বামী কখনো আত্মহত্যা করতে পারেন না এবং এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

বাদী তাহিরা হালিম সাংবাদিকদের জানান, যৌথ ব্যবসায়ীদের কাছে তার স্বামীর প্রায় দেড় কোটি টাকা পাওনা ছিল এবং প্রায় দুই কোটি পঞ্চাশ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছিল। কয়েক মাস ধরে পাওনা টাকার বিষয়ে চাপ দেওয়ায় ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে তার স্বামীর বিরোধ তৈরি হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও চেম্বারে অপমান ও শারীরিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার দিন ফজলুর রহমান বাড়ি থেকে হাসিখুশি মনে বের হন এবং ব্যবসায়িক কাজে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিবারের কাছে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন,
“ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। মামলার ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

ফজলুর রহমানের মৃত্যুকে ঘিরে নেত্রকোনা শহরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি মৃত ঠিকাদারের পাওনা অর্থ তার পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের ভাষ্য,
“আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। এই মৃত্যুর রহস্য উন্মোচন করে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please follow and like us:

     এই বিভাগের আরো খবর

আমাদের পেজ লাইক করুন

error: Content is protected !!