আন্তর্জাতিক ডেক্স:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে তিন ফিলিস্তিনি নারী এবং ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে এক বিদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানায়, বুধবার গভীর রাতে হেবরনের কাছে বেইত আউয়া শহরের একটি হেয়ার সেলুনে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন নারী নিহত হন। চলমান সংঘাতে ইরানি হামলায় এটিই প্রথম ফিলিস্তিনি মৃত্যুর ঘটনা বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সী মাইস গাজি মাসালমেহ রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরও আটজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, সেলুনটি একটি বাড়ির পাশে স্থাপিত ধাতব কাঠামোর ক্যারাভানে ছিল। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ছাদে বড় ছিদ্র সৃষ্টি হয় এবং ভেতরে রক্তের চিহ্ন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক বিদেশি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবা সংস্থা ম্যাগেন ডেভিড আদম জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি একজন থাই নাগরিক, যিনি কৃষিখাতে কর্মরত ছিলেন।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে ওই নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, তেল আবিবের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে মোশাভ আদানিম এলাকায় তিনি নিহত হন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে থাকা ধাতব ধ্বংসাবশেষে গুরুতর আঘাত পেয়ে তার মৃত্যু হয়।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হামলার পর ইসরাইলের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলসহ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়।
অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডস এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি, কিছু হামলায় ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ফিলিস্তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন আল-শেখকে ফোন করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে ব্যাপক হামলার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে, যা এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্তৃত আকার নিয়েছে।