আর্ন্তজাতিক ডেক্স:
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে হঠাৎ ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সৃষ্ট এই দাবানলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আগুনের ভয়াবহতায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং শত শত বাড়িঘর পুড়ে গেছে। একযোগে অন্তত দুই ডজন স্থানে আগুন সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দাবানলের বিস্তার ঠেকাতে চিলি সরকার বায়োবিও ও নুবলে—এই দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ও বিপর্যয় পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দুই অঞ্চলে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বা ৫০ হাজার একর এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আল জাজিরা ও বিবিসির পৃথক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
রোববার চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক বলেন, দাবানলে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নতুন করে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করা হয়েছে।
চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলেই দাবানলের প্রভাব সবচেয়ে ভয়াবহ। রোববার এই দুই অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে প্রেসিডেন্ট বোরিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ‘সব ধরনের সম্পদ প্রস্তুত রাখা হয়েছে’। এই ঘোষণার ফলে সেনাবাহিনীও আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই দুই শহরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।
চিলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলভারো এলিজালদে বলেন, আগামী কয়েক দিনে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতি, বিশেষ করে অতিরিক্ত তাপমাত্রা, আগুন নেভানোর কাজকে আরও কঠিন করে তুলবে। তিনি বলেন, “আমরা একটি অত্যন্ত জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।”
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বায়োবিও ও নুবলে অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা আগুনে পুড়ে গেছে এবং কমপক্ষে ২৫০টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। এতে করে ব্যাপক হারে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হচ্ছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় গণমাধ্যমে রাস্তায় পড়ে থাকা পুড়ে যাওয়া গাড়ির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি খরার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিলিতে একের পর এক ভয়াবহ দাবানল দেখা দিয়েছে। দেশটির বন বিভাগ কনাফ জানিয়েছে, রোববার সারা দেশে মোট ২৪টি দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছিল দমকল বাহিনী। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দাবানলগুলো নুবলে ও বায়োবিও অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে আরও জানানো হয়েছে, প্রবল বাতাস ও গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা আগুনের বিস্তার আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণকাজে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে।
এই পরিস্থিতিতে চিলির বড় একটি অংশে তাপপ্রবাহ-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনের মধ্যে সান্তিয়াগো থেকে বায়োবিও পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-মধ্য চিলি বারবার ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে একযোগে শুরু হওয়া দাবানলে দেশটিতে ১৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। সে সময় প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক এটিকে ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর চিলির সবচেয়ে বড় জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি