নিজস্ব প্রতিবেদক:
গাজীপুরের কাশিমপুরে পূর্বের একটি ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার না করায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। মামলা প্রত্যাহার না করলে তাকে হত্যা, লাশ গুম অথবা মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে ভারতে পাচারের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা আমেনা বেগম (৫৩) বাদী হয়ে গাজীপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় দায়ের করা সি.পি. পিটিশন মামলায় কাশিমপুরের সারদাগঞ্জ সাতবাড়ী এলাকার মো. মেহেদী হাসান (২১), মো. হৃদয় হাসান (২২), মো. জাহিদুল ইসলাম (৩৮), মো. জাকির (৩৮)সহ আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অভিযোগে সাতক্ষীরার মোছা. মাছুরা বেগম (৩৫) ও মো. হাফিজুর রহমান (৪৮) এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রধান আসামি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে এর আগে কাশিমপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
অভিযোগ অনুযায়ী, হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর মেহেদী হাসান ভুক্তভোগীর পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য ভয়ভীতি দেখানো ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তরুণীকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া হয়। এতে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত ১৮ এপ্রিল বিকেলে তরুণী তার মায়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে কয়েকজন আসামি বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান।
এরপর থেকে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ জুলাই মেহেদী হাসান তার মোবাইল ফোন থেকে ভুক্তভোগীর মায়ের নম্বরে কল করেন। এ সময় পূর্বের মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলা প্রত্যাহার না করলে তরুণীকে ফেরত দেওয়া হবে না এবং তাকে হত্যা করে লাশ গুম অথবা মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে ভারতে পাচার করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী। বাদী আমেনা বেগমের অভিযোগ, অপহরণের ঘটনা ও পরবর্তী হুমকির বিষয়ে কাশিমপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা গ্রহণ কিংবা তরুণীকে উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, তাদের গ্রেপ্তার এবং অপহৃত তরুণীকে দ্রুত উদ্ধারের আবেদন জানিয়েছেন বাদী। মামলায় নাম থাকা মোছা. মাছুরা বেগম ও মো. হাফিজুর রহমানকে নিয়ে সাতক্ষীরায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, মাছুরা বেগমকে এলাকায় ‘লেডি ডাকাত’ এবং হাফিজুর রহমানকে ‘টেমি’ নামে কেউ কেউ উল্লেখ করেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ব্ল্যাকমেইল, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে গাজীপুরের মামলায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলায় অভিযুক্ত মাছুরা বেগম, হাফিজুর রহমান এবং অন্য আসামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।