স্টাফ রির্পোটার:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের এক আধুনিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।
শনিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়নে ডিএমসিয়ানদের ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞান যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক না কেন, এর কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকে। চিকিৎসা পেশার মূল ভিত্তি মানবিকতা। অনেক সময় একজন রোগীর প্রতি চিকিৎসকের আন্তরিক আশ্বাসের একটি বাক্যও ওষুধের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
নিজের চিকিৎসক জীবনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আর কখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা হয়নি। গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের কষ্ট খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে এমন একটি ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি রোগী সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহমর্মিতা পাবেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে পরিণত হবে। তিনি বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ডিএমসিয়ানদের কর্মক্ষেত্র ভিন্ন হলেও সবার পরিচয়ের শিকড় একই। তাই শুধু স্মৃতির বন্ধনে নয়, দায়িত্ববোধের জায়গা থেকেও সবাইকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামো নয়; বরং তার মানুষ, তাদের মেধা, মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ। চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি জীবনের গল্প জড়িয়ে থাকে। তাই পেশাগত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি চিকিৎসকদের মধ্যে সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।