জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক নির্যাতন বিরোধী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “নির্যাতন মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং মানব মর্যাদার প্রতি একটি জঘন্য আঘাত। ন্যায়ভিত্তিক সমাজে এর কোনো স্থান নেই।” তিনি বাংলাদেশের হাজারো নির্যাতনের শিকার সাহসী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বের অন্যান্য নির্যাতিতদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চলা শাসনামলে ভিন্নমতাবলম্বী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর নির্বিচারে নির্যাতন চালানো হয়েছে। আইনের অপব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি, আটক ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল, যা আইনের শাসন, রাজনীতি ও সমাজকে কলুষিত করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, “এই নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অপরাধীদের বিচার, সংস্কার এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন—এই তিনটি ভিত্তির ওপর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের লক্ষ্যই হলো একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা।”
তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার “ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পার্সনস ফ্রম এনফোর্সড ডিসএপিয়েরেন্স”-এ স্বাক্ষর করে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, গুম বা গোপন আটকের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “এই আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর আমাদের ঘরোয়া আইন প্রণয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।” তিনি জানান, গঠিত হয়েছে “কমিশন অব এনফোর্সড ডিসএপিয়েরেন্স”, যা অতীতের গুম ও নির্যাতনের অভিযোগগুলো স্বচ্ছভাবে তদন্ত করবে এবং প্রতিকারের সুপারিশ দেবে।
পুলিশ ও বিচার বিভাগে সংস্কারের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানবাধিকার, নৈতিক আচরণ এবং জোরজবরদস্তিমুক্ত অনুসন্ধান পদ্ধতি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, আটকের সময় বিচারিক তদারকি জোরদার করা হয়েছে এবং এখন থেকে প্রহরাধীন সব জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক প্রক্রিয়া নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এগুলো প্রাথমিক পদক্ষেপ হলেও এগুলো অতীত থেকে একটি দৃঢ় ও স্পষ্ট প্রস্থান। আমাদের লক্ষ্য শুধু ভবিষ্যতের নির্যাতন ঠেকানো নয়, বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা।”
বাণীর শেষাংশে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আজ আমরা নির্যাতনের শিকার সকল মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। আমরা তাদের কষ্টকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই দিনটি হোক একটি মোড় পরিবর্তনের সূচনা—বাংলাদেশের জন্য এবং সকল দেশের জন্য যারা ন্যায়ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট।