ম্যানিলা:- ফিলিপাইনের দক্ষিণ উপকূলে শনিবার একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬.১।
ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল দাভাও অক্সিডেন্টাল প্রদেশের কাছাকাছি, যা ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। ইউএসজিএস আরও জানায়, ভূকম্পনের গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার (৬৩ মাইল), যা ভূপৃষ্ঠের তুলনায় গভীরে হওয়ায় এর প্রভাব অপেক্ষাকৃত কম অনুভূত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে সারাঙ্গানি দ্বীপের একজন প্রাদেশিক উদ্ধার কর্মকর্তা, মারলাউইন ফুয়েন্তেস, বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “ভূমিকম্পটি তেমন শক্তিশালী ছিল না, তবে আমাদের কার্যালয়ের টেবিল ও কম্পিউটারগুলো প্রায় পাঁচ সেকেন্ড ধরে কাঁপছিল।”
ফিলিপাইন সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি, যা স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি এনেছে।
ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় এ দেশে ভূমিকম্প একটি সাধারণ ঘটনা। এই ‘রিং অফ ফায়ার’ হল একটি বিশাল ভূ-তাত্ত্বিক এলাকা, যা জাপান থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত। এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে।
এই অঞ্চলে বেশিরভাগ ভূমিকম্প এতটাই দুর্বল হয় যে সেগুলো মানুষের অনুভূতির বাইরে থাকে। তবে মাঝেমধ্যে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলো এলোমেলোভাবে সংঘটিত হয়, এবং সেগুলোর সময় বা অবস্থান পূর্বানুমান করা বর্তমান প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়।
যদিও এই ভূমিকম্পটি বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়নি, তবে ভূ-তাত্ত্বিকরা মনে করছেন, জনগণের উচিত সব সময় প্রস্তুত থাকা। কারণ শক্তিশালী ভূমিকম্প যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে।
সংগৃহীত সূত্র: ইউএসজিএস, এএফপি