কুম্ভমেলায় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন – বিবিসির অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদন ঘিরে বিতর্ক

আর্ন্তজাতিক ডেক্স: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে কুম্ভমেলার সময় পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ফের বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত কুম্ভমেলায় পদপিষ্ট হয়ে ৮১ জন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। অথচ উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন সরকার মৃতের সংখ্যা মাত্র ৩৭ জন বলে জানিয়ে এসেছে।

বিবিসির তদন্তে উঠে এসেছে আরও বিস্ময়কর কিছু তথ্য। সংস্থাটি জানায়, তাদের অনুসন্ধানী দল ১১টি রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা ১০০টি পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে, যারা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে ওই ঘটনার শিকার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৬টি পরিবারের হাতে গোপনে ক্ষতিপূরণের আংশিক অর্থ (৫ লক্ষ টাকা) তুলে দেওয়া হয়েছে। আবার ১৮টি পরিবার একেবারেই ক্ষতিপূরণ পাননি

প্রতিবেদনে ৬২ বছরের তারা দেবীর মৃত্যুর উদাহরণ তুলে ধরা হয়। জানা যায়, তিনি তার পুত্রের সঙ্গে কুম্ভে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান। তবে সরকারি তালিকায় তার নাম আছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। তার পরিবার দাবি করেছে, ২৫ মার্চ উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি দল বিহারের গোপালগঞ্জে এসে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছে, এবং বাকি ২০ লক্ষ টাকা পরে দেওয়া হবে বলে আশ্বাসও দিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশ সরকার বলছে, তারা ৩৭ জনের মধ্যে ৩৫ জন মৃতের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে। একজনের দেহ শনাক্ত করা যায়নি এবং অন্য একজনের কোনো নিকটাত্মীয়ের সন্ধান মেলেনি বলেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে মৃতদের কিছু পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, বহু মৃত্যু ঘটনাকে ভুলভাবে ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যাতে করে ক্ষতিপূরণ না দিতে হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, মৃতদের তালিকা সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি, ফলে প্রকৃত সংখ্যাটি জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখা হচ্ছে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আবারও সামনে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী মন্তব্য, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “কত হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে, কত লাশ গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই।”

বিবিসির এই অনুসন্ধান সামনে আসায় কুম্ভমেলা নিয়ে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও তথ্য গোপনের অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ সরকার ফের চাপের মুখে পড়েছে। যদিও সরকার পক্ষ থেকে এখনো বিবিসির দাবি খণ্ডন করে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

Please follow and like us:

     এই বিভাগের আরো খবর

আমাদের পেজ লাইক করুন

error: Content is protected !!