ওয়াশিংটন/গাজা: — ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের চলমান রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ৫১০ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় এই ঘোষণা দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যা বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংস্থা (DSCA) জানায়, এই সম্ভাব্য বিক্রির আওতায় রয়েছে:
৩,৮৪৫টি KMU-558B/B জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (JDAM) গাইডেন্স কিট
৩,২৮০টি KMU-572F/B JDAM গাইডেন্স কিট
সঙ্গে প্রকৌশল, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও রক্ষণাবেক্ষণ সরঞ্জামাদি
ডিএসসিএ-এর ভাষ্য অনুযায়ী, “এই অস্ত্র সরবরাহ ইসরায়েলের সীমান্ত নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করতে সাহায্য করবে এবং এটি দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবেলার সক্ষমতা বাড়াবে।”
এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একের পর এক বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৫৬,৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই নারী ও শিশু।
শুধুমাত্র গত ৩০ জুন, সোমবারই, ইসরায়েলি বিমান ও আর্টিলারি হামলায় কমপক্ষে ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং বহু আহত হন। অধিকাংশ হামলা হয়েছে বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয়কেন্দ্র ও বেসামরিক স্থাপনায়, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের শামিল।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সহায়তা ঘোষণার পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত সবাই প্রশ্ন তুলছেন— বেসামরিক হত্যাযজ্ঞের মাঝেও কেন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অস্ত্র দিয়ে চলেছে?
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মামলার তৎপরতাও জোরালো হচ্ছে। গত নভেম্বরে, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (ICC) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (ICJ)-এ ইসরায়েলের গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে গাজায় বেসামরিক জনগণের ওপর দমনমূলক ও নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।